শিরোনাম
আবদুল্লাহ মজুমদার : | ০৮:২৫ পিএম, ২০২৬-০৭-০২
একটি খাল শুধু পানির ধারা নয়; এটি একটি জনপদের প্রাণ, কৃষির আশীর্বাদ, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং প্রকৃতির ভারসাম্যের অন্যতম ভিত্তি। সেই খালের বুক যখন শ্যালো মেশিনের গর্জনে ক্ষতবিক্ষত হয়, তখন হারিয়ে যায় শুধু বালু নয়—ক্ষয়ে যেতে থাকে পরিবেশ, জননিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বলিরজুম এলাকার ডলুখালকে ঘিরে ওঠা অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তাই কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয়; এটি আমাদের পরিবেশ-সুরক্ষা, আইনের শাসন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বলিরজুম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডলুখালের পাড় কেটে শ্যালো মেশিনে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পাশের চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকা হয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না; কেউ আপত্তি তুললে ভয়ভীতি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি। অবশ্য এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সরেজমিনে শ্যালো মেশিন বসিয়ে একযোগে বালু উত্তোলন, খালের ওপর অস্থায়ী কাঠের সাঁকো নির্মাণ এবং প্রতিদিন বালুবাহী যানবাহনের চলাচলের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড় কাটার ফলে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, বালু উত্তোলনস্থলের অদূরেই রয়েছে বন বিভাগের বনায়ন এলাকা। অবৈধভাবে মাটি ও বালু অপসারণ অব্যাহত থাকলে শুধু খাল নয়, আশপাশের বনভূমি এবং সামগ্রিক পরিবেশও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রকৃতির ভারসাম্য একবার নষ্ট হলে তার প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের জীবন, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়তে থাকে।
তবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় তদন্তের মাধ্যমে, জনশ্রুতির ভিত্তিতে নয়। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। যদি প্রমাণিত হয় যে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন করা হয়েছে, তবে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের প্রয়োগে কোনো বৈষম্য বা শৈথিল্য জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডলুখালের ওই স্থানে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘোষণা দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে—এটাই স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা। নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসম্পৃক্ত তদারকি ছাড়া এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন।
প্রকৃতি কখনো উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করে না; সে নীরবে ক্ষত জমিয়ে রাখে। কিন্তু সেই ক্ষতের প্রতিফলন একসময় দেখা দেয় নদীভাঙনে, জলাবদ্ধতায়, কৃষিজমির ক্ষয়ে এবং মানুষের দুর্ভোগে। ডলুখালের ঘটনাকে তাই একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা শুধু পরিবেশবাদীদের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। আজ যদি একটি খালকে রক্ষা করা যায়, তবে রক্ষা পাবে একটি জনপদের ভবিষ্যৎ, প্রকৃতির ভারসাম্য এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ বাংলাদেশ।
লেখক : সাংবাদিক, সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited